April 10, 2026, 7:11 pm

দৈনিক কুষ্টিয়া অনলাইন/
কুষ্টিয়ার মিরপুরে একটি স্কুল ভবনের শ্রেণিকক্ষ থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা ১১ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীর চিকিৎসকরা প্রাথমিক পরীক্ষায় ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।
ঐ ছাত্রীটি কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের দুই কর্মচারীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী মিরপুর উপজেলার বাসিন্দা। বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর থেকে সে নানাবাড়িতে বসবাস করে আসছিল। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে সে ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এসএসসি ২০২৬ ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যায়।
অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরিবারের অভিযোগ, রাত ৮টার দিকে বিদ্যালয়ের পিয়ন হামিদুলের কাছে কিশোরীর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বিদ্যালয়ে কেউ নেই বলে জানান এবং চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এতে সন্দেহ হলে স্থানীয়রা চাবি নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন।
পরে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার একটি শ্রেণিকক্ষ থেকে অচেতন অবস্থায় কিশোরীকে উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে অবস্থার অবনতি হলে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন।
কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক হোসেন ইমাম বলেন, ভুক্তভোগীকে রাতে হাসপাতালে আনা হয় এবং প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে পরীক্ষায় প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার কথা জানান তিনি।
ভুক্তভোগীর মা জানান, অনুষ্ঠান শেষে তার মেয়ে শ্রেণিকক্ষে ব্যাগ আনতে গিয়েছিল। এরপর সে কোথায় গেছে তা তারা জানেন না। জ্ঞান ফেরার পর কিশোরী জানায়, সে সিঁড়ির কাছে বসেছিল; এরপর আর কিছু মনে নেই।
ভুক্তভোগীর মামা জানান, তারা আপাতত বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করছেন। তবে সঠিক বিচার না পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।